চোখে দেখতে একদম আসল টাকার মতো লাগলেই যে নোট আসল—এমন ধরে নেওয়াই জাল টাকার সবচেয়ে বড় সুযোগ। একটু সচেতন হলেই কিন্তু সহজ কয়েকটি লক্ষণ দেখে আসল ও নকল টাকার পার্থক্য বোঝা যায়। প্রযুক্তি আর সাধারণ পর্যবেক্ষণ—দুটো একসঙ্গে ব্যবহার করলেই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
আসল নোটে প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়ার কথা, তা হলো নিরাপত্তা সুতা। ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে বাঁ পাশ বরাবর বিশেষ নকশার নিরাপত্তা সুতা থাকে, যা নোট নেড়েচেড়ে দেখলে রঙ পরিবর্তন করে এবং আলোতে চকচক করে। নকল নোটে এই পরিবর্তন সাধারণত অস্পষ্ট বা একেবারেই থাকে না।
এরপর খেয়াল করুন লুকানো লেখা ও সংখ্যা। নোটটি একটু কাত করে ধরলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির নিচে বা নির্দিষ্ট নকশার ভেতরে টাকার মান লেখা দেখা যায়। আসল নোটে এগুলো পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে, কিন্তু জাল নোটে হয় অস্পষ্ট, নয়তো একদম অনুপস্থিত।
খুব সূক্ষ্ম ফন্টও আসল টাকার বড় চিহ্ন। নোটের কিছু অংশে এত ছোট অক্ষরে লেখা থাকে যে খালি চোখে বোঝা কঠিন। স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে জুম করলে আসল নোটে অক্ষর পরিষ্কারই থাকে, ফেটে যায় না। নকল নোটে এই সূক্ষ্ম লেখা ঝাপসা হয়ে যায়।
স্পর্শও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। আসল টাকা বিশেষ ধরনের কাগজে তৈরি হওয়ায় নোট একটু শক্ত ও খসখসে অনুভূত হয়। নকল নোট সাধারণ কাগজে ছাপানো হওয়ায় তুলনামূলক নরম ও মসৃণ লাগে।
রঙের পরিবর্তনশীল সংখ্যাও লক্ষ্য করুন। নোটটি এদিক-ওদিক নড়ালে কোণায় থাকা সংখ্যার রঙ বদলায়—কোথাও সোনালি থেকে সবুজ, কোথাও ম্যাজেন্টা থেকে সবুজ। এই ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নকল নোটে ঠিকভাবে তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত উপায় হলো UV Light ব্যবহার। UV Light আসল নোটের নির্দিষ্ট অংশ জ্বলজ্বল করে ওঠে, কারণ সেখানে বিশেষ কালি ও উপাদান ব্যবহার করা হয়। জাল নোটে এই প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তাই Mini Fake Note Detector UV Light বা USB Rechargeable UV Fake Note Detector ব্যবহার করলে কয়েক সেকেন্ডেই নোট যাচাই করা সম্ভব।
সারকথা, চোখ, হাত আর সামান্য প্রযুক্তি—এই তিনের সমন্বয়ই জাল টাকা থেকে বাঁচার সবচেয়ে শক্ত ঢাল। একটু সচেতন হলেই প্রতারণার ফাঁদ এড়িয়ে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করা যায়।
